দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকার চারপাশের নদীতে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী ওয়াটার বাস চালুর সরকারি উদ্যোগের পথে নির্মাণাধীন নড়াই সেতুকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে এর উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’।
রোববার আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশকর্মীরা নড়াই নদী রক্ষায় তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগকারী নির্মাণাধীন নড়াই সেতুর খিলানের উচ্চতা ১১ মিটারের কম হওয়ায় বর্ষাকালে ওয়াটার বাস, স্কাভেটর, ড্রেজারসহ বড় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে নোঙর বাংলাদেশের সভাপতি সুমন শামস বলেন, নদীকে খাল হিসেবে উল্লেখ করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌপথ সংকুচিত করা হচ্ছে। সরকার যখন ঢাকার নদীপথকে গণপরিবহনের আওতায় আনতে ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা করছে, তখন নড়াই সেতুর কম উচ্চতা সেই উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে সেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস তো দূরের কথা, নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী বড় নৌকা, স্কাভেটর বা ড্রেজারও চলাচল করতে পারবে না। তাই নড়াই সেতুর নকশা সংশোধন করে উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
সুমন শামস আরও বলেন, নড়াই নদীর পরিচয় মুছে ফেলার অংশ হিসেবে এর নামফলকও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর রামপুরা ব্রিজের পাশে নোঙর বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘নড়াই নদী’ নামফলকটি স্থাপন করা হয়েছিল। গত ২৬ জুন সেটি উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—বর্ষায় নৌপথ সচল রাখতে নড়াই সেতুর উচ্চতা বাড়িয়ে হাতিরঝিল ও রামপুরা ব্রিজ থেকে বালু নদী পর্যন্ত ওয়াটার বাস, স্কাভেটরসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা; উধাও হওয়া ‘নড়াই নদী’ নামফলক পুনঃস্থাপন, নদীর দূষণ বন্ধ এবং দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ; এবং বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর ওপর মাস্টারপ্ল্যানে চিহ্নিত কম উচ্চতার ১৩টি সেতু ভেঙে উচ্চতা বাড়িয়ে পুনর্নির্মাণ করা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্যমতে নড়াই নদী কোনো খাল নয়; এটি হাতিরঝিল ও বালু নদীর সংযোগকারী প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ঐতিহাসিক নদী। দ্রুত সেতুর নকশা সংশোধন করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ-চলাচল নিশ্চিত না করলে রামপুরা-আফতাবনগর এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তাঁরা।
এ সময় নদী গবেষক আলিউদ্দিন আহম্মেদ, নোঙর বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বি সানি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জামিলুর রহমান নয়ন, আগামীর বাংলাদেশের সভাপতি আলমগীর পারভেজ, নদী কর্মী ও সমাজসেবক মো. আজিজ, তরিকত ফেডারেশনের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া, পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ আলী মিন্টু ও মো. ফারুক হোসেন বক্তব্য দেন।
এমএস/